May 30, 2026, 7:31 am

শিরোনাম :
টিকার ঘাটতিতেই বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব, এএমআর রুখতেও টিকাদান জরুরি

টিকার ঘাটতিতেই বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব, এএমআর রুখতেও টিকাদান জরুরি

বাংলাদেশে সংক্রমণ কমানো, অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার হ্রাস এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) মোকাবেলায় টিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে নতুন এক পলিসি ব্রিফে। ওয়ান হেলথ ট্রাস্ট এবং আইসিডিডিআর,বি–এর নেতৃত্বে পরিচালিত গ্লোবাল অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স পার্টনারশিপ (গার্প) এ পলিসি ব্রিফ প্রকাশ করেছে।

‘বাংলাদেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবেলায় টিকার গুরুত্ব’ শীর্ষক এই পলিসি ব্রিফে বলা হয়েছে, টিকাকে শুধু সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের উপায় হিসেবে নয়, বরং অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমানো, ওষুধ-প্রতিরোধী সংক্রমণের বিস্তার ঠেকানো এবং দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন দেশে সাম্প্রতিক বছরের অন্যতম বড় হামের প্রাদুর্ভাব চলছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত দেশে ৫৪ হাজার ৯১১ জনের বেশি সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮৯ জনের বেশি নিশ্চিত বা সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন এবং কিছু জনগোষ্ঠীর টিকার প্রতি আস্থা কমে যাওয়ার কারণে রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাবে।

আইসিডিডিআর,বি–এর ইনফেকশাস ডিজিজেস ডিভিশনের এন্টারিক অ্যান্ড রেসপিরেটরি ইনফেকশন্স ইউনিটের বৈজ্ঞানিক ও গার্প-বাংলাদেশের সভাপতি ডা. ওয়াসিফ আলী খান বলেন, সংক্রমণ কমানো, অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার হ্রাস এবং জীবাণুর ওষুধ-প্রতিরোধী ক্ষমতা মোকাবেলায় টিকা সবচেয়ে কার্যকর ও সাশ্রয়ী উপায়গুলোর একটি। টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা প্রতিটি সংক্রমণ অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার এবং ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার কমাতে সহায়তা করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে এএমআরের কারণে ৩ কোটি ৯০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। শুধু বাংলাদেশেই ২০২১ সালে এএমআরের সঙ্গে সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৯৬ হাজার ৮৭৮। এর মধ্যে ২৩ হাজার ৪৫৪ জনের মৃত্যু সরাসরি এএমআরের কারণে হয়েছে।

পলিসি ব্রিফে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) মাধ্যমে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে নবজাতকের ধনুষ্টংকার নির্মূল, পোলিও দূরীকরণ এবং জন্মগত রুবেলা নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তবে এসব অর্জন স্থায়ী ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিকার কভারেজ বাড়ানো গেলে দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

ওয়ান হেলথ ট্রাস্টের ফেলো ও পার্টনারশিপ পরিচালক ডা. আর্টা কালানক্সি বলেন, এএমআর মোকাবেলায় বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় নজরদারির পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

পলিসি ব্রিফে সার্বজনীন শিশু টিকাদানের কভারেজ বজায় রাখা, এএমআর প্রতিরোধে কার্যকর টিকার প্রাপ্যতা সম্প্রসারণ এবং জাতীয় এএমআর প্রতিরোধ কৌশলে টিকাদান কর্মসূচিকে আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া নিউমোকক্কাল কনজুগেট টিকার কার্যকারিতা নিয়মিত মূল্যায়ন, টাইফয়েড কনজুগেট টিকাকে দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং রোটাভাইরাস টিকা দ্রুত চালুর সুপারিশও করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2026 Desh-bangla.Com
Design & Developed BY PJM1337